প্রবেশপথ ও অভ্যর্থনা
সুস্পষ্ট একটি প্রবেশপথ ও ধীর ঢালের সিঁড়ি দিয়ে নিচতলার অভ্যর্থনা ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে পৌঁছানো যাবে।
আনন্দ আশ্রম — প্রবীণদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ঠিকানা
প্রবীণদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ নিবাস ও সেবা কেন্দ্র — উদ্যোগে মিতালী হোসেন ট্রাস্ট
মিতালী হোসেন ট্রাস্ট কেবলমাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচগাঁও মৌজায় একটি দ্বিতল প্রবীণ নিবাস ভবনের এককালীন নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠা ব্যয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছে। ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর জনবলের বেতন, খাদ্য, বিদ্যুৎ-পানি ও রক্ষণাবেক্ষণসহ দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নিবাসীদের প্রদত্ত সাশ্রয়ী মাসিক ফি দিয়েই নির্বাহ করা হবে।
মিতালী হোসেন ট্রাস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচগাঁও মৌজায় নিজস্ব ২২ শতাংশ জমিতে “শেষের কবিতা আনন্দ আশ্রম” নামে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রবীণ নিবাস ও সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে — বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রবীণদের জন্য, বিশেষত যাঁদের পরিবার নেই, যাঁরা বিপত্নীক, অবিবাহিত বা সন্তানহীন এবং যাঁদের বার্ধক্যে দেখাশোনার কেউ নেই।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৫,৫০০ + ৫,৫০০ = ১১,০০০ বর্গফুটের একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হবে, যেখানে একসাথে ৬০ জন প্রবীণ ব্যক্তি বসবাস করতে পারবেন — চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই সংখ্যা সম্প্রসারণ করা যাবে। প্রকল্পের সর্বমোট আনুমানিক নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠা ব্যয় ২,৭৯,৮২,৫০০ টাকা (দুই কোটি ঊনআশি লক্ষ বিরাশি হাজার পাঁচ শত টাকা) — এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র এই এককালীন নির্মাণ ব্যয়ের জন্যই তহবিল সংগ্রহ করছি।
প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি যাতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকতে পারে, সেজন্য দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বোর্ডারদের সাশ্রয়ী মাসিক ফি দিয়েই নির্বাহ করা হবে। আমরা সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ, প্রাতিষ্ঠানিক দাতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই এককালীন নির্মাণ ব্যয়ে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের জনমিতিক কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় যে দেশ তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এখন প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি দশজন নাগরিকের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হয়ে যাবে, এবং আগামী দশকগুলোতে এই অনুপাত আরও দ্রুত বাড়বে। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাতও ২০১৯ সালের ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৯.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, দেশে এমন প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যাঁরা নিজে উপার্জনক্ষম নন এবং কারো না কারো উপর নির্ভরশীল। এই জনমিতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সামাজিক কাঠামোতেও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপান্তরিত হওয়া, কর্মসূত্রে সন্তানদের দেশ-বিদেশে অবস্থান, নগরায়নের চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যস্ততা — এসবের ফলে বহু প্রবীণ মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এই সংকট স্বীকার করা হয় — বার্ধক্যে নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্বসহ বয়সজনিত নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা যে দেখা দেয়, এবং প্রবীণরা যেন শেষ বয়সে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
এই সংকট বিশেষভাবে তীব্র মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রবীণদের ক্ষেত্রে। উচ্চবিত্ত পরিবার প্রয়োজনে ব্যয়বহুল বেসরকারি সেবা কিনতে পারে, আবার হতদরিদ্র প্রবীণরা সরকারি বয়স্ক ভাতা ও সমাজসেবামূলক কর্মসূচির আওতায় আসেন। কিন্তু মাঝখানে থেকে যান বিশাল একটি জনগোষ্ঠী — যাঁদের হাতে কিছুটা সঞ্চয় বা সামর্থ্য আছে, কিন্তু বার্ধক্যে তাঁদের দেখাশোনার মতো কেউ নেই। সরকারের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির যোগ্যতা নির্ধারণেও এই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকে আলাদাভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে — বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা সরকারি নীতিমালাতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
বাস্তবে দেখা যায় — অবিবাহিত প্রবীণ, বিপত্নীক, সন্তানহীন দম্পতি, অথবা যাঁদের সন্তানরা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দূরে সরে গেছেন — এমন অনেক প্রবীণ মানুষের নিজস্ব সঞ্চয় বা পেনশন থাকলেও বার্ধক্যে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকেন না। এই বাস্তবতার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা প্রায় ৩২টি, যার মধ্যে মাত্র ৬টি সরকারি মালিকানাধীন — এত বিশাল ও ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় যা নিতান্তই অপ্রতুল।
যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, তার অধিকাংশই উচ্চবিত্তের জন্য তৈরি এবং মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ফলে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী — সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের অভাবে — বার্ধক্যে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। “শেষের কবিতা আনন্দ আশ্রম” ঠিক এই ফাঁকটি পূরণের লক্ষ্যে পরিকল্পিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র প্রসঙ্গে: উপরের জনমিতিক, নীতিগত ও খাতভিত্তিক তথ্যসমূহ মূল প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে নেওয়া। জনমিতিক তথ্যের উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংকের উল্লেখ থাকলেও প্রস্তাবনায় পূর্ণ তথ্যসূত্র দেওয়া নেই; দাতাদের যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সেগুলো পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
নকশায় আলো-বাতাসযুক্ত কক্ষগুলো সাজানো হয়েছে একটি সবুজ উঠানকে ঘিরে, যাতে নিবাসীরা নিজের কক্ষ, ছায়াঘেরা বারান্দা ও সবার জন্য উন্মুক্ত বসার স্থানের মধ্যে সহজে চলাফেরা করতে পারেন। পুরো ভবন জুড়ে হুইলচেয়ার-বান্ধব প্রশস্ত করিডোর, উপযুক্ত উচ্চতার হাতল ও প্রবীণ-উপযোগী নকশা অনুসরণ করা হবে।
সুস্পষ্ট একটি প্রবেশপথ ও ধীর ঢালের সিঁড়ি দিয়ে নিচতলার অভ্যর্থনা ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে পৌঁছানো যাবে।
চারপাশে নিম গাছের সবুজ ছায়ায় খোলা বাগান ও বসার স্থান — প্রতিটি অংশে আলো, বাতাস আর একসাথে সময় কাটানোর জায়গা।
পরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসযুক্ত ও ফার্নিচারসহ বাসোপযোগী কক্ষ — ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সহজ তত্ত্বাবধান দুটোই বিবেচনায় রেখে সাজানো।
ডাইনিং হলের সাথেই টিভি রুম ও বইয়ের তাক — খাওয়াদাওয়া, গল্প আর দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের কেন্দ্র।
প্রশস্ত করিডোর, ধাপবিহীন মেঝে ও হাতল — হুইলচেয়ার চলাচল এবং নিরাপদে ধীরে হাঁটার সুযোগ।
প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও মৌজায় অবস্থিত। ট্রাস্টের নিজস্ব মালিকানাধীন ২২ শতাংশ জমির উপর ভবন নির্মিত হবে। ঢাকা মহানগরী থেকে তুলনামূলক নিকটবর্তী হওয়ায় পরিবার-স্বজনদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুবিধা থাকবে, আবার এলাকাটি শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হওয়ায় প্রবীণদের জন্য শান্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিচতলা | ৫,৫০০ বর্গফুট |
| দ্বিতীয়তলা | ৫,৫০০ বর্গফুট |
| মোট নির্মাণ এলাকা | ১১,০০০ বর্গফুট |
| বর্তমান ধারণক্ষমতা | একসাথে ৬০ জন প্রবীণ নিবাসী (ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণযোগ্য) |
নিচতলায় থাকবে অভ্যর্থনা ও প্রশাসনিক কার্যালয়, ডাইনিং হল ও রান্নাঘর, টিভি রুম, একটি পৃথক মেডিকেল/অসুস্থ কক্ষ, এবং প্রবীণ নিবাসীদের জন্য পৃথক পৃথক আলো-বাতাসযুক্ত কক্ষ। দ্বিতীয়তলায় থাকবে অতিরিক্ত আবাসিক কক্ষ, সাধারণ বসার ও আড্ডার স্থান, এবং প্রশস্ত বারান্দা/খোলা স্থান।
| পদ | সংখ্যা |
|---|---|
| সিইও | ১ |
| সুপার কাম একাউন্টেন্ট | ১ |
| কেয়ারগিভার | ৪ |
| নার্স | ২ |
| রান্না স্টাফ | ৩ |
| পিয়ন | ১ |
| পরিচ্ছন্নতা কর্মী | ২ |
| নিরাপত্তারক্ষী | ২ |
| মালি | ১ |
| সর্বমোট | ১৭ |
জনবলের বেতনসহ প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বোর্ডারদের মাসিক ফি থেকে নির্বাহ করা হবে — এই খরচ বর্তমান তহবিল সংগ্রহ প্রচেষ্টার অংশ নয়।
| পর্যায় | কার্যক্রম | আনুমানিক সময়কাল |
|---|---|---|
| ১ম পর্যায় | নকশা চূড়ান্তকরণ, মাটি পরীক্ষা ও অনুমোদন | ১–২ মাস |
| ২য় পর্যায় | ফাউন্ডেশন ও নিচতলা নির্মাণ | ৪–৫ মাস |
| ৩য় পর্যায় | দ্বিতীয়তলা নির্মাণ ও ছাদ ঢালাই | ৩–৪ মাস |
| ৪র্থ পর্যায় | ফিনিশিং, বিদ্যুৎ-পানির লাইন, সোলার স্থাপন | ২–৩ মাস |
| ৫ম পর্যায় | আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম স্থাপন, জনবল নিয়োগ ও উদ্বোধন প্রস্তুতি | ১–২ মাস |
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। সকল অঙ্ক বাংলাদেশি টাকায়।
| খাত / বিবরণ | পরিমাণ | আনুমানিক খরচ (৳) |
|---|---|---|
| মূল ভবন নির্মাণ — নিচতলা (ফাউন্ডেশন, RCC কাঠামো, গাঁথুনি, ছাদ ঢালাই, প্লাস্টার, ফিনিশিং, দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক-পানির লাইন ও সেপটিক ট্যাংকসহ) | ৫,৫০০ বর্গফুট × ২,৫০০ টাকা | ১,৩৭,৫০,০০০ |
| মূল ভবন নির্মাণ — দ্বিতীয়তলা (ফাউন্ডেশন ছাড়া) | ৫,৫০০ বর্গফুট × ১,৮০০ টাকা | ৯৯,০০,০০০ |
| হুইলচেয়ার রেলিং ও প্রবীণ-বান্ধব কাঠামো | আনুমানিক | ৩,০০,০০০ |
| সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি) | আনুমানিক | ৫,০০,০০০ |
| জেনারেটর ব্যাকআপ ব্যবস্থা | আনুমানিক | ৩,০০,০০০ |
| সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা | আনুমানিক | ১,০০,০০০ |
| মেডিকেল/অসুস্থ কক্ষের সরঞ্জাম | আনুমানিক | ২,০০,০০০ |
| রান্নাঘর ও ক্যান্টিন সরঞ্জাম, টিভি রুম | আনুমানিক | ৩,০০,০০০ |
| আসবাবপত্র — বেড, ওয়ারড্রোব, চেয়ার-টেবিল, কমন রুমের আসবাব | আনুমানিক | ১০,০০,০০০ |
| পর্দা ও হালকা অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা | আনুমানিক | ৩,০০,০০০ |
| অপ্রত্যাশিত ব্যয় (Contingency, প্রায় ৫%) | আনুমানিক | ১৩,৩২,৫০০ |
| মোট | ২,৭৯,৮২,৫০০ | |
সর্বমোট আনুমানিক ব্যয়: ২,৭৯,৮২,৫০০ টাকা — দুই কোটি ঊনআশি লক্ষ বিরাশি হাজার পাঁচ শত টাকা।
ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন খরচ (জনবলের বেতন, খাদ্য, বিদ্যুৎ-পানি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি) নিবাসীদের প্রদত্ত সাশ্রয়ী মাসিক ফি দিয়ে নির্বাহ করা হবে। যেহেতু এটি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তৈরি, ফি নির্ধারিত হবে বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী পর্যায়ে — বাণিজ্যিক বৃদ্ধাশ্রমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
যেসব নিবাসী দীর্ঘদিন থাকার পর ফি দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবেন, তাঁদের জন্য সদকায়ে জারিয়া তহবিলের আয় থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। এই কাঠামোর ফলে প্রতিষ্ঠানটি একবার নির্মিত হয়ে গেলে বছর বছর নতুন করে অনুদানের উপর নির্ভর করতে হবে না — এটি দাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস যে তাঁদের অবদান একটি স্থায়ী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।
সুধী ও হৃদয়বান দাতাগণ নিম্নলিখিত যেকোনো মাধ্যমে এই এককালীন নির্মাণ-ব্যয়ে শরিক হতে পারেন।
একজন দাতা নিজের বা তাঁর মনোনীত কোনো প্রবীণ ব্যক্তির জন্য আশ্রমে একটি কক্ষে আজীবন থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন। দাতা একটি নির্দিষ্ট এককালীন অর্থ ট্রাস্টে জমা দেবেন, যা নির্মাণ তহবিলে যুক্ত হবে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তি একটি লাইসেন্সকৃত (নন-ট্রান্সফারেবল) আজীবন আবাসনের অধিকার পাবেন — জমি বা কক্ষের মালিকানা হস্তান্তর নয়, সেবাগ্রহণের একটি নিশ্চিত অধিকার।
মাসিক ফি: এই এককালীন অর্থ শুধু আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করে; দৈনন্দিন খাবার-সেবার জন্য নির্ধারিত মাসিক ফি প্রযোজ্য থাকবে কিনা বা কতটা ছাড় পাবে, তা ট্রাস্ট বোর্ড নির্ধারণ করবে।
কক্ষ খালি থাকাকালীন: নিবাসী সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হলে সেই আয়ের একটি অংশ (প্রস্তাবিত: ৭৫% নিবাসী/পরিবার, ২৫% ট্রাস্ট) ভাগ করা হবে।
মৃত্যুর পর: নিবাসীর মৃত্যুর পর কক্ষটি পুনরায় ট্রাস্টের অধীনে ফিরে আসবে এবং অন্য কোনো অসহায় প্রবীণের সেবায় ব্যবহৃত হবে।
একজন দাতা তাঁর প্রয়াত মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা প্রিয়জনের নামে আশ্রমের একটি নির্দিষ্ট কক্ষ স্পনসর করতে পারবেন। কক্ষটির প্রবেশদ্বারে একটি নামফলকে প্রয়াত ব্যক্তির নাম উৎকীর্ণ থাকবে।
তহবিলের ব্যবহার: এই এককালীন অনুদান নির্মাণ তহবিলে যুক্ত হবে। এছাড়া এই কর্মসূচি থেকে যদি একটি স্থায়ী তহবিল গড়ে ওঠে, তার আয় ব্যবহৃত হবে দীর্ঘদিন আশ্রমে বসবাসের পর আর্থিক সামর্থ্য হারানো প্রবীণদের মাসিক ফি ভর্তুকিতে।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব দাতার মৃত্যুর পরও তাঁর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে, যতদিন সেই সম্পদ কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
যাঁরা উপরের নির্দিষ্ট কাঠামোয় আবদ্ধ না হয়ে সরাসরি নির্মাণ ব্যয়ে অবদান রাখতে চান, তাঁদের জন্য এই মাধ্যম উন্মুক্ত। যেকোনো পরিমাণ অনুদান গ্রহণযোগ্য এবং তা নির্মাণ ব্যয়ের যে খাতে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন, সেখানে ব্যবহৃত হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক দাতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও তাদের CSR (Corporate Social Responsibility) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অবদান রাখতে পারে।
ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উদ্বৃত্ত আয় কেবল সামাজিক কল্যাণ, সদকায়ে জারিয়া ভর্তুকি ও পরিবেশ সংরক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে — কখনোই ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়। ব্যয়ের হিসাব ট্রাস্ট বোর্ডের নিয়মিত সভায় পর্যালোচিত হবে এবং প্রয়োজনে দাতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
মিতালী হোসেন ট্রাস্ট প্রতিটি অনুদানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়মিত দাতাদের অবহিত করা হবে, ব্যয়ের হিসাব রক্ষিত হবে, এবং ট্রাস্ট বোর্ডের নিয়মিত সভায় তা পর্যালোচিত হবে। বড় অঙ্কের দাতাদের জন্য প্রয়োজনে পৃথক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।
মিতালী হোসেন ট্রাস্ট একটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যা সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন চেয়ারম্যান মিতালী হোসেন প্রায় এক দশক আগে প্রথম প্রবীণদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের স্বপ্ন দেখেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজস্ব জমি দান করেই এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু করবেন — আর সেই সিদ্ধান্ত থেকেই মিতালী হোসেন ট্রাস্টের জন্ম।
প্রকল্পের জন্য দানকৃত ২২ শতাংশ জমির (দলিল নং ৬০১৬) বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, যা ট্রাস্টের প্রাথমিক মূলধন হিসেবে ইতোমধ্যে ট্রাস্টের নিজ নামে সংযুক্ত হয়েছে।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| চেয়ারম্যান | মিতালী হোসেন |
| ভাইস চেয়ারম্যান | মৌটুসী খন্দকার |
| মহাসচিব | এডভোকেট রুমানা ইয়াসমিন শাওন |
| যুগ্ম সচিব | খন্দকার আবুল এহসান |
| কোষাধ্যক্ষ | কামরুন নাহার |
| সাধারণ সদস্য | জওহারুল মামুন; ইমেলদা হোসেন; ডা. ফারহানা নাশিদ রাখি; মো. শাহ আলী নেওয়াজ তপু |
“শেষের কবিতা আনন্দ আশ্রম” কেবল একটি ভবন নয় — এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন, যাঁরা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে বসবাসের অধিকার রাখেন।
আমি আমার নিজের জমি দান করে এই যাত্রা শুরু করেছি — এখন প্রয়োজন শুধু ভবনটি দাঁড় করানোর জন্য একটি এককালীন সহযোগিতা। একবার তৈরি হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং সমাজের সেইসব নিঃসঙ্গ, অসহায় প্রবীণকেও আশ্রয় দেবে, যাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো আজ কেউ নেই। আপনার আর্থিক সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের এই যাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
বিনীত
মিতালী হোসেন
চেয়ারম্যান, মিতালী হোসেন ট্রাস্ট
| মাধ্যম | বিবরণ |
|---|---|
| মোবাইল | ০১৯৯৪৩৮০৭৩০ |
| ইমেইল | shesherkobita38@gmail.com |
| ওয়েবসাইট | www.shesherkobita.com |
| একাউন্টের নাম | মিতালী হোসেন ট্রাস্ট |
| একাউন্ট নাম্বার | ৩৬০৬১০২০০০৭৬৩ |
| ব্যাংক ও শাখা | সোনালী ব্যাংক, ধূপতারা শাখা |
এই পৃষ্ঠার তথ্য মিতালী হোসেন ট্রাস্ট প্রদত্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে নেওয়া। সকল নকশা ও রেন্ডারিং কল্পিত এবং চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন সাপেক্ষে পরিবর্তনযোগ্য।